নার্সিংয়ে প্রেশার সোর প্রতিরোধের উপায়

প্রিয় পাঠক, কেমন আছেন সবাই? আপনাদের প্রিয় সুমনা খাতুন, একজন বাংলাদেশি নার্স, আজ আবার হাজির হয়েছি একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে।

Pressure Sore Prevention Methods in Nursing

আশা করি সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন। আপনাদের দোয়ায় আমিও বেশ ভালো আছি। আসলে, আমার নার্সিং জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এমন কিছু সমস্যা আছে যা ছোট মনে হলেও রোগীর জন্য অনেক বড় কষ্ট নিয়ে আসে। এর মধ্যে একটি হলো প্রেশার সোর বা শয্যাক্ষত। আমি নিজে দেখেছি, কিভাবে একটি ছোট লালচে দাগ অবহেলায় বড় ঘা'য়ে পরিণত হয়ে রোগীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। শুধু শারীরিক কষ্ট নয়, এর সাথে যোগ হয় মানসিক যন্ত্রণা, পরিবারের উপর আর্থিক ও মানসিক চাপ।

সত্যি বলতে কি, নার্স হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্বগুলোর মধ্যে একটি হলো রোগীর কষ্ট কমানো এবং রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করা। আর এই প্রেশার সোর প্রতিরোধ করাটা আমাদের কাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদি আমরা একটু সচেতন হই, একটু বাড়তি যত্ন নিই, তাহলে কিন্তু এই জটিল সমস্যাটি অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব।

তাহলে চলুন, কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক নার্সিংয়ে প্রেশার সোর প্রতিরোধের উপায়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। আশা করি আজকের লেখাটি আপনাদের সবার জন্য খুব উপকারি হবে, বিশেষ করে যারা শুয়ে থাকা রোগীর যত্ন নিচ্ছেন, অথবা নার্সিং পেশার সাথে জড়িত আছেন।

প্রেশার সোর বা শয্যাক্ষত আসলে কী? কেন এটি এত ভয়ের?

দেখুন, প্রেশার সোর বা শয্যাক্ষত বলতে সহজ কথায় শরীরের চামড়ার উপর দীর্ঘক্ষণ চাপ পড়ে সৃষ্ট ঘা'কে বোঝায়। যখন একজন রোগী দীর্ঘ সময় ধরে বিছানায় বা চেয়ারে একভাবে শুয়ে বা বসে থাকেন, তখন শরীরের নির্দিষ্ট কিছু অংশে চাপ পড়ে। বিশেষ করে শরীরের যে জায়গাগুলোতে হাড় বেশি এবং চর্বি বা মাংস কম, যেমন কোমর, নিতম্ব, গোড়ালি, কনুই, কাঁধের ব্লেড, মাথার পেছনের অংশ সেখানে রক্ত চলাচল কমে যায়।

রক্ত চলাচল কমে গেলে ওই এলাকার কোষগুলো পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পায় না। এর ফলে প্রথমে চামড়ার রং বদলে যায়, লালচে বা গাঢ় হয়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে ওই স্থানটি ক্ষয় হতে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত একটি গভীর ঘায়ে পরিণত হয়। একেই আমরা বলি প্রেশার সোর বা বেড সোর।

এটি কেন এত ভয়ের জানেন? কারণ, একবার যখন প্রেশার সোর হয়ে যায়, তখন এর চিকিৎসা করাটা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় এটি এতটাই গভীরে চলে যায় যে হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যায়, আর তখন ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। গ্যাংগ্রিন হয়ে অঙ্গহানি পর্যন্ত হতে পারে। এর ফলে রোগীর হাসপাতালে থাকার সময় বাড়ে, চিকিৎসার খরচ বাড়ে, আর রোগীর কষ্ট তো আছেই। তাই এর চিকিৎসা করার চেয়ে প্রতিরোধ করাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ, তাই না?

কাদের প্রেশার সোর হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?

একটি কথা বলে রাখি, প্রেশার সোর কিন্তু যে কারো হতে পারে, তবে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। নার্স হিসেবে আমাদের অবশ্যই এই ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের প্রতি বাড়তি মনোযোগ দিতে হবে।

  • যারা চলাফেরা করতে পারেন না: স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, মেরুদণ্ডের আঘাত, কোমরের হাড় ভাঙা বা কোনো বড় অপারেশনের পর যারা দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থাকেন, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। আসলে, নড়াচড়া করার ক্ষমতা কমে যাওয়াটাই প্রেশার সোরের মূল কারণ।
  • বয়স্ক ব্যক্তিরা: বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের ত্বক পাতলা ও নাজুক হয়ে যায়। ত্বকের ইলাস্টিসিটি কমে যায় এবং পুষ্টি গ্রহণ ক্ষমতাও কমে আসে। ফলে সামান্য চাপেই তাদের প্রেশার সোর হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
  • পুষ্টিহীনতায় ভোগা রোগীরা: পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের অভাবে ত্বকের সুস্থতা ব্যাহত হয়। যারা অপুষ্টিতে ভুগছেন, তাদের শরীরের ক্ষত সহজে শুকায় না এবং প্রেশার সোর হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • ডায়াবেটিস ও রক্তনালীর সমস্যায় ভোগা রোগীরা: ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত থাকে, ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত চলাচল এমনিতেই কম থাকে। তাই তাদের ত্বক আরও বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
  • অসংযম সমস্যায় ভোগা রোগীরা (Incontinence): যারা প্রস্রাব বা পায়খানা ধরে রাখতে পারেন না, তাদের ত্বক সবসময় আর্দ্র ও নোংরা থাকার কারণে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর্দ্রতা ত্বকের বাইরের স্তরকে দুর্বল করে দেয় এবং সহজে ভেঙে যেতে সাহায্য করে।
  • মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হওয়া রোগীরা: যারা অজ্ঞান বা অচেতন অবস্থায় আছেন, অথবা যারা ব্যথার অনুভূতি কম পান (যেমন নিউরোপ্যাথি), তারা নিজেদের অস্বস্তি জানাতে পারেন না বা অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন না। তাই তাদেরও প্রেশার সোর হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।

আসলে, একজন নার্স বা রোগীর যত্নকারী হিসেবে আমাদের প্রথম কাজই হলো ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের খুঁজে বের করা এবং তাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিরোধ পরিকল্পনা তৈরি করা। আপনি কি আপনার রোগীর ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলো চিহ্নিত করেছেন?

প্রেশার সোর প্রতিরোধের মূল স্তম্ভগুলো কী কী?

প্রেশার সোর প্রতিরোধে কয়েকটি মূল বিষয় আছে, যা নিয়মিত অনুসরণ করলে এই সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন, প্রতিটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি।

১. নিয়মিত ত্বকের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন: চোখ কান খোলা রাখুন!

এটি প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। একজন নার্স হিসেবে রোগীর ত্বকের প্রতি আপনার মনোযোগ অবশ্যই অনেক বেশি থাকতে হবে।

  • কত ঘনঘন পরীক্ষা করবেন? প্রতি শিফটে (যদি আপনি হাসপাতালে কাজ করেন) অথবা দিনে কমপক্ষে দুইবার (সকালে এবং সন্ধ্যায়) রোগীর সম্পূর্ণ শরীর ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে। যারা খুব ঝুঁকিপূর্ণ রোগী, তাদের ক্ষেত্রে আরও ঘনঘন পরীক্ষা করা উচিত।
  • কী কী দেখবেন? ত্বকের রং পরিবর্তন হয়েছে কিনা, বিশেষ করে লালচে বা গাঢ় বর্ণ ধারণ করেছে কিনা, সেটি লক্ষ্য করুন। চাপ দিলে যদি লালচে ভাব না সরে যায়, তাহলে সতর্ক হোন। চামড়ার তাপমাত্রা (গরম বা ঠান্ডা), স্পর্শ করে দেখুন কোনো নরম বা শক্ত জায়গা আছে কিনা। ফোস্কা পড়েছে কিনা বা কোনো ক্ষত দেখা যাচ্ছে কিনা, সেটিও দেখতে হবে।
  • কোন জায়গাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ? সবসময় হাড়ের উপর যে স্থানগুলোতে চাপ পড়ে, যেমন কোমরের পেছনের অংশ (স্যাক্রাম), নিতম্বের হাড় (ইশিয়াল টিউবারোসিটি), গোড়ালি, কনুই, কাঁধের ব্লেড এবং মাথার পেছনের অংশ। এমনকি পুরুষদের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষের নিচেও খেয়াল রাখতে হয়।
  • একটি কথা বলে রাখি: যখন রোগীর ত্বক পরীক্ষা করবেন, তখন অবশ্যই পর্যাপ্ত আলো ব্যবহার করবেন এবং হাতে গ্লাভস পরে নেবেন। আপনার হাতের স্পর্শ এবং চোখ দিয়ে ভালোভাবে দেখতে হবে। রোগীর আত্মীয়দেরও দেখিয়ে দিতে পারেন কিভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়।

আপনি কি আপনার রোগীর শরীরের হাড়যুক্ত স্থানগুলো প্রতিদিন দেখছেন? প্রথম দিকেই সমস্যা চিহ্নিত করতে পারলে কিন্তু সহজেই প্রতিরোধ করা যায়।

২. রোগীর অবস্থান পরিবর্তন: নড়াচড়া মানেই জীবন!

প্রেশার সোর প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত রোগীর অবস্থান পরিবর্তন করা। কারণ, চাপ কমালেই রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে।

  • কত ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন করবেন? বিছানায় শুয়ে থাকা রোগীর জন্য প্রতি ২ ঘণ্টা অন্তর অবস্থান পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক। যারা চেয়ারে বসেন, তাদের জন্য প্রতি ১ ঘণ্টা অন্তর অবস্থান পরিবর্তন করানো উচিত।
  • কিভাবে অবস্থান পরিবর্তন করাবেন? রোগীকে এক পাশ থেকে অন্য পাশে কাত করে দিন। একবার ডান কাতে, একবার বাম কাতে, একবার চিত করে। তবে সরাসরি হাড়ের উপর যেন চাপ না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন, ৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে সম্পূর্ণ একপাশে কাত না করে, ৩০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে কাত করে বালিশ ব্যবহার করতে পারেন।
  • ঘষা লাগা এড়িয়ে চলুন: রোগীকে টেনে সরানোর চেষ্টা করবেন না। এতে ত্বকে ঘষা লেগে (friction) বা ছিলে (shear) যেতে পারে, যা প্রেশার সোরের আরেকটি কারণ। বরং, রোগীকে হালকা করে তুলে সরানোর জন্য শিফট শিট বা লিফট শিট (যা আমাদের দেশে কম ব্যবহৃত হয়) ব্যবহার করতে পারেন। অথবা ২-৩ জন মিলে রোগীকে তুলে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরান।
  • বালিশের সঠিক ব্যবহার: বিভিন্ন আকারের বালিশ বা ফোম ব্যবহার করে শরীরের যে জায়গাগুলোতে চাপ বেশি পড়ে, সেগুলোকে শূন্যে রাখুন। যেমন, গোড়ালির নিচে বালিশ দিয়ে গোড়ালিকে ম্যাট্রেস থেকে উপরে তুলে রাখা।

আমি দেখেছি, অনেকেই এই কাজটি করতে গিয়ে রোগীর ত্বকে ঘষা লাগিয়ে দেন, যা আসলে আরও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। আপনার রোগীর অবস্থান পরিবর্তন করার সময় অবশ্যই এই বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন। একটি কথা বলে রাখি, যে স্থানেAlready লালচে হয়ে আছে, সেই স্থানের উপর সরাসরি চাপ দেওয়া থেকে অবশ্যই বিরত থাকুন।

৩. ত্বকের সঠিক যত্ন: পরিচ্ছন্নতা ও আর্দ্রতা!

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ত্বক সুস্থ ত্বকের পূর্বশর্ত। ত্বকের সঠিক যত্ন প্রেশার সোর প্রতিরোধে বিশাল ভূমিকা রাখে।

  • নিয়মিত পরিষ্কার করুন: রোগীকে প্রতিদিন একবার হালকা গরম পানি ও মৃদু সাবান দিয়ে ভালোভাবে গোসল করান অথবা স্পঞ্জ বাথ করান। বিশেষ করে প্রস্রাব বা পায়খানা করার পর দ্রুত ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। এরপর ত্বক ভালোভাবে শুকিয়ে নিন, বিশেষ করে ত্বকের ভাঁজগুলোতে যেন কোনো আর্দ্রতা না থাকে। ঘষা না দিয়ে হালকা হাতে চাপ দিয়ে শুকাবেন।
  • ত্বককে আর্দ্র রাখুন: শুষ্ক ত্বক সহজে ফেটে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই গোসলের পর বা প্রয়োজনে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে ত্বককে আর্দ্র রাখুন। কিন্তু অতিরিক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন না, এতে ত্বক বেশি নরম হয়ে যেতে পারে। তেল বা লোশন দিয়ে আলতোভাবে ম্যাসাজ করতে পারেন, তবে সরাসরি হাড়ের উপর বা লালচে স্থানে চাপ দিয়ে ম্যাসাজ করবেন না।
  • ইনকন্টিনেন্স ম্যানেজমেন্ট: যারা প্রস্রাব বা পায়খানা ধরে রাখতে পারেন না, তাদের ক্ষেত্রে ডায়াপার বা আন্ডারপ্যাড ব্যবহার করতে পারেন। তবে ডায়াপার ভিজে গেলেই সাথে সাথে পরিবর্তন করে ত্বক পরিষ্কার ও শুষ্ক করে নিতে হবে।
  • ঘষা ও ছিঁড়ে যাওয়া এড়ানো: রোগীকে টেনে না সরিয়ে তুলে সরান। বিছানার চাদর বা পোশাক যেন কুঁচকে না থাকে, কারণ কুঁচকানো কাপড়ও ত্বকে ঘষা লাগিয়ে ক্ষত তৈরি করতে পারে।

দেখুন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেকেই মনে করেন শুধু পানি দিয়ে পরিষ্কার করলেই হলো। কিন্তু এটি ভুল ধারণা। সঠিক পণ্য ও সঠিক পদ্ধতিতে পরিষ্কার করা এবং আর্দ্রতা বজায় রাখা অবশ্যই জরুরি। আপনি কি আপনার রোগীর ত্বক সঠিকভাবে পরিষ্কার ও আর্দ্র রাখছেন?

৪. সঠিক পুষ্টি ও হাইড্রেশন: শরীর সুস্থ তো ত্বকও সুস্থ!

শরীরের সুস্থতার জন্য পুষ্টি যেমন জরুরি, তেমনি ত্বকের সুস্থতার জন্যও এর গুরুত্ব অপরিসীম। পুষ্টিহীনতায় ভোগা রোগীদের প্রেশার সোর হওয়ার এবং ক্ষত না শুকানোর ঝুঁকি বেশি থাকে।

  • পর্যাপ্ত প্রোটিন: প্রোটিন নতুন কোষ তৈরি করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত করতে সাহায্য করে। তাই ডিম, মাছ, মাংস, ডাল, বাদাম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার অবশ্যই রোগীর খাদ্যতালিকায় রাখুন।
  • ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ: ভিটামিন সি (লেবু, পেয়ারা, আমলকী), জিঙ্ক (ডিম, মাংস, ডাল) এবং অন্যান্য ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ ত্বকের সুস্থতা ও ক্ষত সারাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাজা ফলমূল ও শাকসবজি অবশ্যই রোগীর খাবার প্লেটে থাকতে হবে।
  • পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ: শরীরকে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও অন্যান্য তরল পানীয় পান করানো খুবই জরুরি। ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা ত্বককে শুষ্ক ও ভঙ্গুর করে তোলে।

আমাদের দেশের অনেক রোগীই অসুস্থ অবস্থায় পর্যাপ্ত পুষ্টি পান না, বিশেষ করে যদি তাদের খাবারের রুচি কমে যায়। এক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে এবং ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে একটি পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে তরল খাবার বা সাপ্লিমেন্টের সাহায্য নিতে পারেন। আপনি নিশ্চিত করুন আপনার রোগী যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করে।

৫. বিশেষায়িত সরঞ্জাম ব্যবহার: প্রযুক্তির সাহায্য নিন!

আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রেশার সোর প্রতিরোধে বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। এগুলো রোগীর উপর চাপ কমিয়ে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

  • প্রেশার রিলিফ ম্যাট্রেস: সাধারণ ম্যাট্রেসের পরিবর্তে এয়ার ম্যাট্রেস (বিশেষ করে ডায়নামিক এয়ার ম্যাট্রেস), জেল ম্যাট্রেস বা ফোম ম্যাট্রেস ব্যবহার করা হয়। এগুলো শরীরের উপর চাপকে সমানভাবে ছড়িয়ে দেয় এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এয়ার ম্যাট্রেসগুলো নিয়মিত বাতাস পরিবর্তন করে রোগীর অবস্থানের উপর চাপ কমাতে পারে।
  • হুইলচেয়ার কুশন: যারা দীর্ঘ সময় হুইলচেয়ারে বসে থাকেন, তাদের জন্য বিশেষ জেল বা ফোমের কুশন ব্যবহার করা উচিত, যা নিতম্বের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করে।
  • হিল প্রটেক্টর ও এলবো প্যাড: গোড়ালি ও কনুইতে চাপ কমাতে বিশেষ ধরনের প্যাড বা প্রটেক্টর ব্যবহার করা যায়। এগুলো নরম উপাদানে তৈরি হয় এবং ওই স্থানগুলোতে চাপ পড়তে দেয় না।

সত্যি বলতে কি, এই সরঞ্জামগুলো আমাদের দেশের সব জায়গায় সহজলভ্য বা সাশ্রয়ী না হতে পারে, কিন্তু যেখানে সম্ভব অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত। একটি ভালো ম্যাট্রেস বা কুশন কিন্তু অনেক বড় বিপদ থেকে আপনার রোগীকে রক্ষা করতে পারে। কেনার আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ নার্স বা ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

No Comments
Add Comment
comment url
মোছাঃ সুমনা খাতুন
Author পরিচিতি:
👤 মোছাঃ সুমনা খাতুন
BNMC রেজিস্টার্ড নার্স
🏢 পদবী: Senior Staff Nurse
🏥 চাকরি: Nasir Uddin Memorial Hospital

Related Posts

Loading...