নার্সিং কলেজে চান্স পাওয়ার সম্পূর্ণ গাইড
আসসালামুয়ালাইকুম, আশা করি ভালো আছেন। শুরুতে আমার পরিচয় দেই,
আমার নাম মোছাঃ সুমনা খাতুন।
আমি একজন নার্স। আমি নার্সিং কোর্স সম্পন্ন করেছি ২০২৩ সালে এবং লাইসেন্স পরিক্ষা দেই ২০২৪ সালে। আমি লাইসেন্সে উত্তীর্ণ হয়ে হাসপাতালে চাকরি নিয়েছিলাম। একটি কথা বলে রাখি লাইসেন্স পাশ করলেই bnmc রেজিস্ট্রার্ড নার্স হয়ে যায় এবং সাথে Senior staff নার্স হয়ে যায়। বর্তমানে Nasir Uddin Memorial hospital এ চাকরি করতেছি ২ বছর ধরে।
বর্তমানে বাংলাদেশে নার্সিং চাহিদা অনেক বাড়তেছে এবং নার্সিং ছাত্র ছাত্রীদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আপনিও চাইলে নার্সিং পড়া শুরু করে দিতে পারেন। আজকে আমি শেয়ার করবো কিভাবে নার্সিং কলেজে চান্স পাবেন।
তাহলে চলুন কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।
Diploma in nursing কি:
Diploma in Nursing হলো একটি ৩ বছর + ৬ মাসের internship ভিত্তিক পেশাগত নার্সিং কোর্স। এই কোর্সটি শেষ করলে License পরিক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হলে Registered Nurse (RN) হয়ে যাবে। তখন বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং NGO-তে চাকরি করতে পারবেন।
Minimum GPA (Admission Requirement):
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত:
🟢 SSC: minimum 2.5 GPA
🟢 HSC: minimum 2.5 GPA
কিন্তু বর্তমানে SSC এবং HSC তে মিনিমাম GPA 3.5 অথবা GPA 4+ হলে ভালো হয়। কারণ সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে চান্স পেতে সাধারণত লাগে:
SSC + HSC মিলিয়ে 5.5 – 6.5+ GPA
Diploma Nursing Admission প্রক্রিয়া:
Admission এর জন্য লিখিত পরীক্ষা MCQ দিতে হয়। যেই বিষয়ে পরিক্ষা হয় সেগুলো হলো:
Biology (সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ)
English
Math
General Knowledge
পরীক্ষার সিলেবাস (কী পড়বে):
Biology (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ):
মানব শরীর (Human body system)
কোষ (Cell)
রোগ ও প্রতিরোধ
Nutrition এবং অন্যান্য
English:
Grammar (tense, voice, preposition)
Sentence correction
Basic vocabulary and others
Math:
Percentage
Ratio
Simple arithmetic and others
GK:
Bangladesh affairs
Health sector knowledge
এইসব বিষয়ে অবশ্যই ধারণা থাকতে হবে আমি শুধু কমন কিছু বলেছি আপনাকে ভালো ভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।
Biology প্রতিদিন পড়তেই হবে।
MCQ practice প্রতিদিন করতেই হবে।
গতবছরের question গুলো জোগাড় করে পড়লে আরো ভালো হবে।
Admission বই:
Diploma Nursing Admission এর জন্য অনেক বই পাওয়া যায় সেই বইগুলো সংগ্রহ করে পড়বেন তাহলে অনেক কমন পাওয়া যায়। তাই Admission এর জন্য admission বই আপনাকে অনেক সাহায্য করবে চান্স পেতে। বর্তমানে যারা Nursing college এ Admission নিচ্ছে সবাই এই বই সংগ্রহ করে পড়ে এতে করে আরো সহজে চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ বইটি সাধারণত Nursing Admission এর জন্যই। বইটিতে সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে MCQ দেওয়া আছে যেগুলো কমন পড়ার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি থাকে। তাই অবশ্যই Admission বই খুব জরুরী যদি আপনি nursing college এ চান্স পেতে আগ্রহী হয়ে থাকেন।
Admission কোচিং সেন্টার:
নার্সিং ভর্তির জন্য বর্তমানে অনেক কোচিং সেন্টার রয়েছে। কোচিং সেন্টারে পড়তে পারেন। বর্তমানে বাংলাদেশে নার্সিং কোচিং সেন্টারগুলো নার্সিং কলেজে চান্স পাবার জন্য গাইড দিয়ে থাকে। কোচিং সেন্টারে নার্সিং বিষয়ে যাবতীয় MCQ এবং লিখিত পরীক্ষার বিষয়ে ধারণা দিয়ে থাকে। কিভাবে আপনি ভর্তি পরীক্ষা দিবেন সে বিষয়টিও সুন্দর করে বুঝিয়ে থাকে। বর্তমানে কোচিং সেন্টারে যুক্ত হওয়া আবশ্যক হয়ে গেছে কারণ কোচিং সেন্টার গুলো খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে শিখিয়ে দেয়। কোচিং সেন্টার গুলো নির্দিষ্ট ভাবে কমন MCQ পড়িয়ে থাকে এবং practice করায়। বর্তমানে যারা নার্সিং কলেজে ভর্তি হয় তারা সবাই কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে সবকিছু শিখে নেয়। কোচিং সেন্টার গুলো সব থেকে বেশি কমন দিয়ে থাকে এবং বেশিরভাগ নার্সিং কলেজে চান্স পেয়ে থাকে ছাত্রছাত্রীরা। তাই আমি বলব অবশ্যই কোচিং সেন্টারে ভর্তি হবেন।
ফেসবুক গ্রুপ:
নার্সিং কলেজে এডমিশন এর জন্য নার্সিং এডমিশন ফেসবুক গ্রুপগুলোতে জয়েন হয়ে নিবেন। যদি আপনি নার্সিং এডমিশন ফেসবুক গ্রুপগুলোতে জয়েন হন তাহলে আপনি অনেক তথ্য পাবেন যা আপনার উপকারে আসবে। যেমন কিভাবে আপনি পরিক্ষা দিবেন, কি কি বিষয়ে পরীক্ষা দিবেন, কিভাবে MCQ এর উত্তর দিবেন এসব বিষয় জানতে পারবেন। এছাড়াও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ছাত্রছাত্রীরা আপনাকে সাহায্য করবে। বিশেষ করে আমি দেখেছি তারা কিছুদিন পর পর বিভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ে থাকে সেগুলোতে আপনি অংশগ্রহণ করতে পারেন এবং প্র্যাকটিস করতে পারেন। এছাড়াও যে কোন বিষয় জানার থাকলে গ্রুপে পোস্ট করলে তারা সমাধান করে দিতে চেষ্টা করবে।
Admission বিষয়ে ইউটিউবে:
নার্সিং এডমিশন বিষয়ে ইউটিউবে সার্চ করলে আপনি অসংখ্য ভিডিও দেখতে পাবেন। সেই ভিডিওগুলো আপনাকে নার্সিং কলেজে ভর্তির জন্য প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে। যেমন কিভাবে আপনি mcq উত্তর দিবেন এসব বিষয়ে এবং কমন MCQ এর বিষয়ে তারা ভিডিও দিয়ে থাকে। এছাড়াও কেউ কেউ লাইভ ক্লাস করিয়ে থাকে সেগুলোতে জয়েন হয়ে ধারণা নিতে পারেন।
Google এ Admission বিষয়ে:
বর্তমানে গুগল খুব জনপ্রিয় মাধ্যম। আপনি নার্সিং এডমিশন বিষয়ে গুগলে সার্চ করে বিভিন্ন তথ্য নিতে পারেন এতে আপনার নার্সিং ভর্তি বিষয়ে সহজ হবে। গুগলে সার্চ করে আপনি জানতে পারবেন কিভাবে নার্সিং admission দিতে হয় এবং বিভিন্ন কমন এমসিকিউ শীট পেয়ে যাবেন অথবা পিডিএফ পেয়ে যাবেন সেগুলোও পড়তে পারেন। এছাড়াও বিভিন্ন নার্সিং বিষয়ে তথ্য দিয়ে থাকে এমন ওয়েবসাইট আছে সেগুলোতে নার্সিং বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পেতে পারেন।
তবে সব থেকে ভালো হয় আপনি নার্সিং এডমিশন বই সংগ্রহ করুন এবং নার্সিং কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন এবং আপনার প্রিপারেশন নিন।
নার্সিং নিয়ে কিছু কথা:
বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত নার্সদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নার্সিং পেশা একটা সেবামূলক পেশা। এই পেশাকে আমরা সবাই সম্মান করবো। কারণ রোগীদের সুস্থ করে তোলার দায়িত্ব থাকে একজন নার্সের উপরে। বাংলাদেশ মোট Registered Nurses (নার্স + মিডওয়াইফ মিলিয়ে): প্রায় 1,50,000 – 1,53,000 জন আছে।
বাংলাদেশে সরকারি + বেসরকারি মিলিয়ে প্রতি বছর নতুন ভর্তি প্রায় 30,000 – 36,000+ নার্সিং ছাত্র-ছাত্রী। মোট চলমান নার্সিং ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা সব ব্যাচ মিলিয়ে প্রায় 1.2 – 2 লক্ষের বেশি।
দেশে এখন 400+ নার্সিং ইনস্টিটিউট/কলেজ আছে। সরকারি + প্রাইভেট দুই সেক্টরেই দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিন দিন হাসপাতাল বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি আপনি নার্সিং কলেজে পড়তে ইচ্ছুক হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি যেই কলেজে ভর্তি হবেন সেই কলেজ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে তারপর ভর্তি হবেন।
Nursing চান্স পাওয়ার পরে:
নার্সিং চান্স পাওয়ার পরে আপনাকে ভালো মতো পড়াশোনা করতে হবে তাহলে আপনি ভালো রেজাল্ট করতে পারবেন। যেহেতু ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ৩ বছরের কোর্স। আপনাকে প্রতিবছর পরীক্ষা দিতে হবে প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় বর্ষ এবং তৃতীয় বর্ষ সব মিলিয়ে তিনটি পরীক্ষা দিতে হবে এবং তিনটি তে উত্তীর্ণ হতে হবে। এরপর আপনাকে ইন্টার্নশিপ করতে হবে হসপিটালে ছয় মাস। নার্সিং কলেজ থেকেই আপনাকে নির্দিষ্ট হাসপাতালে ইন্টার্ন করতে দিবে। আপনাকে অবশ্যই ছয় মাস মনোযোগ সহকারে ডিউটি করতে হবে হাসপাতালে এবং সব বিষয়ে জানতে হবে। ইন্টার্ন করার সময় ডিউটি মিস দেওয়া যাবে না। অবশ্যই আপনার সিনিয়র এর কথা মেনে চলবেন। ছয় মাসের ইন্টার্ন শেষ হলে আপনাকে ইন্টার্ন সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। এরপর আপনাকে লাইসেন্সের জন্য প্রিপারেশন নিতে হবে। লাইসেন্সের জন্য আলাদা বই সংগ্রহ করতে পারেন যেটা লাইসেন্স পরীক্ষার জন্য সহায়ক হবে। যখন লাইসেন্সে আপনি উত্তীর্ণ হবেন তখন আপনি রেজিস্টার্ড নার্স হয়ে যাবেন। এরপর আপনি যেকোন হসপিটালে চাকরি নিতে পারবেন। অথবা সরকারি হাসপাতালে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন যখন সার্কুলার ছাড়বে তখন। নার্সদের জীবন এভাবেই চলতে থাকবে।
উপসংহার:
আমার নাম মোছাঃ সুমনা খাতুন।
আমি একজন নার্স। আমি নার্সিং কোর্স সম্পন্ন করেছি ২০২৩ সালে এবং লাইসেন্স পরিক্ষা দেই ২০২৪ সালে। আমি লাইসেন্সে উত্তীর্ণ হয়ে হাসপাতালে চাকরি নিয়েছিলাম। একটি কথা বলে রাখি লাইসেন্স পাশ করলেই bnmc রেজিস্ট্রার্ড নার্স হয়ে যায় এবং সাথে Senior staff নার্স হয়ে যায়। বর্তমানে Nasir Uddin Memorial hospital এ চাকরি করতেছি ২ বছর ধরে।
বর্তমানে বাংলাদেশে নার্সিং চাহিদা অনেক বাড়তেছে এবং নার্সিং ছাত্র ছাত্রীদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আপনিও চাইলে নার্সিং পড়া শুরু করে দিতে পারেন। আজকে আমি শেয়ার করবো কিভাবে নার্সিং কলেজে চান্স পাবেন।
তাহলে চলুন কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।
Diploma in nursing কি:Diploma in Nursing হলো একটি ৩ বছর + ৬ মাসের internship ভিত্তিক পেশাগত নার্সিং কোর্স। এই কোর্সটি শেষ করলে License পরিক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হলে Registered Nurse (RN) হয়ে যাবে। তখন বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং NGO-তে চাকরি করতে পারবেন।
Minimum GPA (Admission Requirement):
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত:
🟢 SSC: minimum 2.5 GPA
🟢 HSC: minimum 2.5 GPA
কিন্তু বর্তমানে SSC এবং HSC তে মিনিমাম GPA 3.5 অথবা GPA 4+ হলে ভালো হয়। কারণ সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে চান্স পেতে সাধারণত লাগে:
SSC + HSC মিলিয়ে 5.5 – 6.5+ GPA
Diploma Nursing Admission প্রক্রিয়া:
Admission এর জন্য লিখিত পরীক্ষা MCQ দিতে হয়। যেই বিষয়ে পরিক্ষা হয় সেগুলো হলো:
Biology (সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ)
English
Math
General Knowledge
পরীক্ষার সিলেবাস (কী পড়বে):
Biology (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ):
মানব শরীর (Human body system)
কোষ (Cell)
রোগ ও প্রতিরোধ
Nutrition এবং অন্যান্য
English:
Grammar (tense, voice, preposition)
Sentence correction
Basic vocabulary and others
Math:
Percentage
Ratio
Simple arithmetic and others
GK:
Bangladesh affairs
Health sector knowledge
এইসব বিষয়ে অবশ্যই ধারণা থাকতে হবে আমি শুধু কমন কিছু বলেছি আপনাকে ভালো ভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।
Biology প্রতিদিন পড়তেই হবে।
MCQ practice প্রতিদিন করতেই হবে।
গতবছরের question গুলো জোগাড় করে পড়লে আরো ভালো হবে।
Admission বই:
Diploma Nursing Admission এর জন্য অনেক বই পাওয়া যায় সেই বইগুলো সংগ্রহ করে পড়বেন তাহলে অনেক কমন পাওয়া যায়। তাই Admission এর জন্য admission বই আপনাকে অনেক সাহায্য করবে চান্স পেতে। বর্তমানে যারা Nursing college এ Admission নিচ্ছে সবাই এই বই সংগ্রহ করে পড়ে এতে করে আরো সহজে চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ বইটি সাধারণত Nursing Admission এর জন্যই। বইটিতে সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে MCQ দেওয়া আছে যেগুলো কমন পড়ার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি থাকে। তাই অবশ্যই Admission বই খুব জরুরী যদি আপনি nursing college এ চান্স পেতে আগ্রহী হয়ে থাকেন।
Admission কোচিং সেন্টার:
নার্সিং ভর্তির জন্য বর্তমানে অনেক কোচিং সেন্টার রয়েছে। কোচিং সেন্টারে পড়তে পারেন। বর্তমানে বাংলাদেশে নার্সিং কোচিং সেন্টারগুলো নার্সিং কলেজে চান্স পাবার জন্য গাইড দিয়ে থাকে। কোচিং সেন্টারে নার্সিং বিষয়ে যাবতীয় MCQ এবং লিখিত পরীক্ষার বিষয়ে ধারণা দিয়ে থাকে। কিভাবে আপনি ভর্তি পরীক্ষা দিবেন সে বিষয়টিও সুন্দর করে বুঝিয়ে থাকে। বর্তমানে কোচিং সেন্টারে যুক্ত হওয়া আবশ্যক হয়ে গেছে কারণ কোচিং সেন্টার গুলো খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে শিখিয়ে দেয়। কোচিং সেন্টার গুলো নির্দিষ্ট ভাবে কমন MCQ পড়িয়ে থাকে এবং practice করায়। বর্তমানে যারা নার্সিং কলেজে ভর্তি হয় তারা সবাই কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে সবকিছু শিখে নেয়। কোচিং সেন্টার গুলো সব থেকে বেশি কমন দিয়ে থাকে এবং বেশিরভাগ নার্সিং কলেজে চান্স পেয়ে থাকে ছাত্রছাত্রীরা। তাই আমি বলব অবশ্যই কোচিং সেন্টারে ভর্তি হবেন।
ফেসবুক গ্রুপ:
নার্সিং কলেজে এডমিশন এর জন্য নার্সিং এডমিশন ফেসবুক গ্রুপগুলোতে জয়েন হয়ে নিবেন। যদি আপনি নার্সিং এডমিশন ফেসবুক গ্রুপগুলোতে জয়েন হন তাহলে আপনি অনেক তথ্য পাবেন যা আপনার উপকারে আসবে। যেমন কিভাবে আপনি পরিক্ষা দিবেন, কি কি বিষয়ে পরীক্ষা দিবেন, কিভাবে MCQ এর উত্তর দিবেন এসব বিষয় জানতে পারবেন। এছাড়াও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ছাত্রছাত্রীরা আপনাকে সাহায্য করবে। বিশেষ করে আমি দেখেছি তারা কিছুদিন পর পর বিভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ে থাকে সেগুলোতে আপনি অংশগ্রহণ করতে পারেন এবং প্র্যাকটিস করতে পারেন। এছাড়াও যে কোন বিষয় জানার থাকলে গ্রুপে পোস্ট করলে তারা সমাধান করে দিতে চেষ্টা করবে।
Admission বিষয়ে ইউটিউবে:
নার্সিং এডমিশন বিষয়ে ইউটিউবে সার্চ করলে আপনি অসংখ্য ভিডিও দেখতে পাবেন। সেই ভিডিওগুলো আপনাকে নার্সিং কলেজে ভর্তির জন্য প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে। যেমন কিভাবে আপনি mcq উত্তর দিবেন এসব বিষয়ে এবং কমন MCQ এর বিষয়ে তারা ভিডিও দিয়ে থাকে। এছাড়াও কেউ কেউ লাইভ ক্লাস করিয়ে থাকে সেগুলোতে জয়েন হয়ে ধারণা নিতে পারেন।
Google এ Admission বিষয়ে:
বর্তমানে গুগল খুব জনপ্রিয় মাধ্যম। আপনি নার্সিং এডমিশন বিষয়ে গুগলে সার্চ করে বিভিন্ন তথ্য নিতে পারেন এতে আপনার নার্সিং ভর্তি বিষয়ে সহজ হবে। গুগলে সার্চ করে আপনি জানতে পারবেন কিভাবে নার্সিং admission দিতে হয় এবং বিভিন্ন কমন এমসিকিউ শীট পেয়ে যাবেন অথবা পিডিএফ পেয়ে যাবেন সেগুলোও পড়তে পারেন। এছাড়াও বিভিন্ন নার্সিং বিষয়ে তথ্য দিয়ে থাকে এমন ওয়েবসাইট আছে সেগুলোতে নার্সিং বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পেতে পারেন।
তবে সব থেকে ভালো হয় আপনি নার্সিং এডমিশন বই সংগ্রহ করুন এবং নার্সিং কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন এবং আপনার প্রিপারেশন নিন।
নার্সিং নিয়ে কিছু কথা:
বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত নার্সদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নার্সিং পেশা একটা সেবামূলক পেশা। এই পেশাকে আমরা সবাই সম্মান করবো। কারণ রোগীদের সুস্থ করে তোলার দায়িত্ব থাকে একজন নার্সের উপরে। বাংলাদেশ মোট Registered Nurses (নার্স + মিডওয়াইফ মিলিয়ে): প্রায় 1,50,000 – 1,53,000 জন আছে।
বাংলাদেশে সরকারি + বেসরকারি মিলিয়ে প্রতি বছর নতুন ভর্তি প্রায় 30,000 – 36,000+ নার্সিং ছাত্র-ছাত্রী। মোট চলমান নার্সিং ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা সব ব্যাচ মিলিয়ে প্রায় 1.2 – 2 লক্ষের বেশি।
দেশে এখন 400+ নার্সিং ইনস্টিটিউট/কলেজ আছে। সরকারি + প্রাইভেট দুই সেক্টরেই দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিন দিন হাসপাতাল বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি আপনি নার্সিং কলেজে পড়তে ইচ্ছুক হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি যেই কলেজে ভর্তি হবেন সেই কলেজ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে তারপর ভর্তি হবেন।
Nursing চান্স পাওয়ার পরে:
নার্সিং চান্স পাওয়ার পরে আপনাকে ভালো মতো পড়াশোনা করতে হবে তাহলে আপনি ভালো রেজাল্ট করতে পারবেন। যেহেতু ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ৩ বছরের কোর্স। আপনাকে প্রতিবছর পরীক্ষা দিতে হবে প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় বর্ষ এবং তৃতীয় বর্ষ সব মিলিয়ে তিনটি পরীক্ষা দিতে হবে এবং তিনটি তে উত্তীর্ণ হতে হবে। এরপর আপনাকে ইন্টার্নশিপ করতে হবে হসপিটালে ছয় মাস। নার্সিং কলেজ থেকেই আপনাকে নির্দিষ্ট হাসপাতালে ইন্টার্ন করতে দিবে। আপনাকে অবশ্যই ছয় মাস মনোযোগ সহকারে ডিউটি করতে হবে হাসপাতালে এবং সব বিষয়ে জানতে হবে। ইন্টার্ন করার সময় ডিউটি মিস দেওয়া যাবে না। অবশ্যই আপনার সিনিয়র এর কথা মেনে চলবেন। ছয় মাসের ইন্টার্ন শেষ হলে আপনাকে ইন্টার্ন সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। এরপর আপনাকে লাইসেন্সের জন্য প্রিপারেশন নিতে হবে। লাইসেন্সের জন্য আলাদা বই সংগ্রহ করতে পারেন যেটা লাইসেন্স পরীক্ষার জন্য সহায়ক হবে। যখন লাইসেন্সে আপনি উত্তীর্ণ হবেন তখন আপনি রেজিস্টার্ড নার্স হয়ে যাবেন। এরপর আপনি যেকোন হসপিটালে চাকরি নিতে পারবেন। অথবা সরকারি হাসপাতালে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন যখন সার্কুলার ছাড়বে তখন। নার্সদের জীবন এভাবেই চলতে থাকবে।
উপসংহার:
নার্সিং একটি সম্মানিত পেশা। নার্সিং মানেই সেবা দেওয়া। আপনি যদি নার্সিং করতে ইচ্ছুক হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই বুঝে শুনে তারপর ভর্তি হবেন। অবশ্যই ভালো নার্সিং কলেজে ভর্তি হবেন। নার্সিং কলেজে ভর্তি হওয়ার আগে অবশ্যই প্রস্তুতি নিবেন। আশা করি আমার এই কথাগুলো নার্সিং ভর্তিতে অনেক কাজে দিবে। নার্সিং কলেজে ভর্তি হওয়া আপনার জন্য শুভ হোক।
Add Comment
comment url
Related Posts
Loading...